বাস ভাড়া লইয়া

একদা এক রাজ্যে কতিপয় মনুষ্য ‘রাজনগর’ নামীয় নগরে বসবাস করিত । নগরীখানা অতিশয় খাশা এবং দেশের ব্যবসা-বানিজ্য, শিল্প কারখানা সকলই উক্ত নগরীতেই আসিয়া বাসা বাঁধিয়াছিল; রাজ্যের যাবতীয় সুযোগ সুবিধাও কেবল এই নগরীতে পাওয়া যাইত । নানাবিধ কারনে নগরের জনসংখ্যা প্রতিদিন বাড়িতে বাড়িতে নগরের সকল লোক উপচাইয়া পড়িতে লাগিল । এইরকম উপচাইয়া পড়া লোক–সকল প্রতিদিন ‘ঘোড়ায় চরিয়া মর্দ হাঁটিয়া চলিল’ এই পুঁথি পাঠ করিতে করিতে আপন গৃহ হইতে কর্মালয়েরর উদ্দেশ্যে রওনা করিত । কিছু লোক যাহাদিগের আপন মোটরবাহন রহিয়াছে তাহারা নিজ বাহনে আয়েশের সহিৎ যাত্রা করিত – আর যাহাদের সেইরূপ ব্যবস্থা নাই তাহাদের বাহন বিশালাকৃতির বাস । এইসকল বাসে পঞ্চাশ বসিতে পারিত এবং বসিবার মাঝের সরু স্থানে আর পঞ্চাশ-ষাট জন অতিশয় আমোদের সহিৎ গমনাগমন করিত । আমোদের উৎস হিসেবে তাহাদিগের জন্য ব্যবস্থা ছিল, শীতকালে বিশেষ উত্তাপ এবং গ্রীষ্মে যখন তখন বারিধারায় ভিজিয়া ও কর্দমাক্ত হইয়া দেশমাতৃকার স্বাদ লাভের দুর্লভ সুযোগ । এছাড়াও পিছন হইতে ধাক্কা, সামনে হইতে গুঁতো খাওয়ার সুযোগও প্রায়শঃ-ই হইয়া থাকে। প্রয়োজনে বিবিধ নারীপুরুষের বাহারি দস্তুর পোষাক পরিচ্ছদ ও বিবিধ ভাষণ শুনিয়াও অতিশয় আমোদ হইত। বাস ও মোটরবাহন যে বাহনেই যাত্রা করা হউক, গন্তব্য কুড়ি মিনিটের হইলে গন্তব্যে পৌঁছাইতে নিদেনপক্ষে এক ঘন্টা কুড়ি মিনিট লাগিত । ভাগ্য এত সুপ্রসন্ন না হইলে সে সময় দাড়াইতে পারে দুই ঘন্টা বা তাহরও অধিক।

এইসকল সুযোগ সুবিধার মধ্যে হঠাৎ করিয়া বাসের মালিকগণ বাস ভাড়া শতকরা ২০-৪০ হারে বাড়াইয়া দিলেন। কতিপয় ছিদ্রান্বেষী ব্যক্তি ইহাকে অপকর্ম হিসেবে চিহ্নিত করিলেও আসলে ইহাতে প্রভূত উত্তম উদ্দেশ্য রহিয়াছে।
প্রথমত, জনগণ বহুকাল যাবৎ দাবী করিয়া আসিয়াছিল যে বাসের ও যাতায়ত ব্যবস্থার উন্নতি করা হউক। আমরা জানি ভালো ও উন্নত বস্তু মাত্রেই তাহার মূল্য কিংবা ভাড়া বেশি হইবেই। সুতরাং যাহার ভাড়া অধিক তাহার গুণগত মান উন্নত। বাস ভাড়া বাড়াইয়া তাই সকল যাত্রীকেই পূর্বের বাসেই আরও উন্নত সুযোগ ও সেবা পাবার ব্যবস্থা করা হইল।
দ্বিতীয়ত, বাস ভাড়া বাড়াইবার ফলে কিছু লোকের জন্য বাসের ভাড়া অতি উচ্চ হইবে বিধায় তাহারা বাসে উঠিবে না, ফলে বাসে ভিড় কমিয়া যাইবে।
তৃতীয়ত, বাসের দুর্মূল্য হেতু অনেকেই বাসে না উঠিয়া হাঁটিয়া যাইবে। হণ্টন স্বাস্থ্যের জন্য অতি হিতকর ব্যায়াম এবং হণ্টনের দরূণ মনুষ্য দেহের প্রভূত উপকার হইবে। ফলত জাতীয় স্বাস্থ্যের উন্নতি হইবে।
চতুর্থত, বাসের ভাড়া বৃদ্ধিতে বাস মালিকগণের আয় বাড়িবে ফলতঃ রাজ্য অধিক কর আদায় করিবে ও সেই কর দিয়া প্রজাসকলের সুযোগ সুবিধা আরও বাড়াইয়া দিবে।

এত সকল সুফল থাকা স্বত্তেও বাসের ভাড়া বৃদ্ধির বিরোধিতা করিবার কি কারন থাকিতে পারে তাহা এই অধমের বোধগোম্য হইতেছে না 😉

Advertisements

Published by

nafSadh

I study theory and applications of computing sciences.

7 thoughts on “বাস ভাড়া লইয়া”

  1. “এত সকল সুফল থাকা স্বত্তেও বাসের ভাড়া বৃদ্ধির বিরোধিতা করিবার কি কারন থাকিতে পারে তাহা এই অধমের বোধগোম্য হইতেছে না” – মোরা অতিব সুঃখে অবস্থান করিতেছি (!) বিধায় মোগোরে ভুতে আসিয়া তসরীফ ম্যাসাজ করিয়া দিয়া যাইতেছে।

    Like

    1. খাসা বাৎ! পঠনমাত্র হাসিতে হাসিতে চেয়ার হইতে পড়িয়া যাইতে উদ্যত হইলাম 🙂

      Like

  2. “এত সকল সুফল থাকা স্বত্তেও বাসের ভাড়া বৃদ্ধির বিরোধিতা করিবার কি কারন থাকিতে পারে তাহা এই অধমের বোধগোম্য হইতেছে না” – তুমি ‘অধম’, তাই বলিয়া আমরা ‘উত্তম’ হইতে পারিব না? 😉 এই জন্যই কারন সমূহ আমাদের বোধগম্য হইতেছে। 😥

    অ.ট. লিখা খাসা হইয়াছে। 😀

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

w

Connecting to %s